হরমুজ প্রণালি বন্ধ, বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থির, সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার অগ্রগতি ঘোষণা করলেও, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটির আশেপাশ থেকে সাধারণ মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবারের এই সতর্কবার্তা সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে নমনীয়তার কোনও চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। আইআরজিসি অভিযোগ করেছে, “ভীতু আমেরিকান-জায়নবাদী বাহিনী সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। জরুরি ভিত্তিতে ঘাঁটির আশেপাশ থেকে সরে যান যাতে কোনও ক্ষতি না হয়।”
ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদেরও লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। এ সময় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে যাতায়াতকারী আন্তর্জাতিক জাহাজকে সতর্ক করে ফিরিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও শেয়ার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জাপান সাময়িকভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, আর ভিয়েতনাম তেলের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করেছে।
ফ্রান্সে জি-৭ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেছেন। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার বলেছেন, “ইরান এভাবে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করতে পারে না। এই সংকট দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।”
ইরান মার্কিন প্রস্তাব নাকচ করে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালিতে সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীর ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানও ওয়াশিংটনের কাছে ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাবি করেছেন।
টানা যুদ্ধে তেহরানের ১২০টি ঐতিহাসিক স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে হামলা-জবাবের ঘটনা চলছেই। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ সতর্ক করেছেন, যুদ্ধের মাশুল অনেক বেশি, সেনাবাহিনী সীমার মধ্যে পৌঁছেছে।



















