ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পদ্মায় বাস নিমজ্জন, দৌলতদিয়ায় শোক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদ :

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবোঝাই একটি বাস পদ্মা নদীতে নিমজ্জিত হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ফেরিঘাটে প্রবেশের সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। বাসটির গতি তুলনামূলক বেশি ছিল বলে জানান তারা। ঘাটে কার্যকর কোনো নিরাপত্তা ব্যারিয়ার না থাকায় বাসটি থামানো সম্ভব হয়নি।

ঘাটের এক শ্রমিক বলেন, “চোখের সামনে বাসটা নদীতে পড়ে গেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি পানির নিচে তলিয়ে যায়।”

স্থানীয়দের ধারণা, বাসটিতে ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। রাতভর উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত ছিল।

উদ্ধার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বাসটি দ্রুত গভীরে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ খুবই কম ছিল। নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো, ঘাটে নিরাপত্তা ব্যারিয়ারের অভাব এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ব্যস্ততম ফেরিঘাটগুলোর একটিতে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ঘাট এলাকায় স্বজনদের আহাজারি দেখা গেছে। নিখোঁজদের খোঁজে অনেকে ছুটে আসেন। এক স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সে বলেছিল, একটু পরেই পৌঁছাবে। এখন শুনছি নদীতে পড়ে গেছে।”

ঘটনার পর প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন নদীপথে অতীতেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা, যানবাহনের ফিটনেস সংকট এবং নিয়মিত তদারকির অভাব এসব দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তির জন্য দায়ী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১১:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
২৫ বার পড়া হয়েছে

পদ্মায় বাস নিমজ্জন, দৌলতদিয়ায় শোক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবোঝাই একটি বাস পদ্মা নদীতে নিমজ্জিত হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ফেরিঘাটে প্রবেশের সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। বাসটির গতি তুলনামূলক বেশি ছিল বলে জানান তারা। ঘাটে কার্যকর কোনো নিরাপত্তা ব্যারিয়ার না থাকায় বাসটি থামানো সম্ভব হয়নি।

ঘাটের এক শ্রমিক বলেন, “চোখের সামনে বাসটা নদীতে পড়ে গেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি পানির নিচে তলিয়ে যায়।”

স্থানীয়দের ধারণা, বাসটিতে ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। রাতভর উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত ছিল।

উদ্ধার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বাসটি দ্রুত গভীরে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ খুবই কম ছিল। নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো, ঘাটে নিরাপত্তা ব্যারিয়ারের অভাব এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ব্যস্ততম ফেরিঘাটগুলোর একটিতে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ঘাট এলাকায় স্বজনদের আহাজারি দেখা গেছে। নিখোঁজদের খোঁজে অনেকে ছুটে আসেন। এক স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সে বলেছিল, একটু পরেই পৌঁছাবে। এখন শুনছি নদীতে পড়ে গেছে।”

ঘটনার পর প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন নদীপথে অতীতেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা, যানবাহনের ফিটনেস সংকট এবং নিয়মিত তদারকির অভাব এসব দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তির জন্য দায়ী।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481