বেপরোয়া অটোরিকশার ধাক্কা, আহত সাংবাদিক
রাজধানীর সড়কে বেপরোয়া অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে আবারও ঘটেছে দুর্ঘটনা। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন রোজ খবর–এর সিনিয়র সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম খোকন। তবে দুর্ঘটনায় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার কিছু আগে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম খোকন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সারাদিনের কাজ শেষে তিনি মোটরসাইকেলযোগে রামপুরা এলাকা দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে সামান্য আহত হন। তবে নিরাপত্তা হেলমেট পরা থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান।
দুর্ঘটনায় তার মোটরসাইকেলের সামনের অংশসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা অটোরিকশা চালককে আটক করলে উত্তেজিত কিছু মানুষ তাকে মারধর করতে উদ্যত হন।
তবে আহত অবস্থাতেই মানবিকতার পরিচয় দিয়ে সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম খোকন স্থানীয়দের শান্ত থাকতে অনুরোধ করেন এবং চালককে মারধর না করে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
পরে ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি স্থানীয় একটি গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাংবাদিক খোকন বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানা গেছে।
বেপরোয়া অটোরিকশা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আহত সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম খোকন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল এখন এক ধরনের মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কে প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে—বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব অটোরিকশা চালকদের অনেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তা মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
ট্যাক্সহীন অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম্য
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী অনেক অটোরিকশারই বৈধ নিবন্ধন নেই এবং সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন ছাড়াই সড়ক ও মহাসড়কে চলাচল করছে।
যেখানে পেডেলচালিত রিকশা চালাতে সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স ও কর দিতে হয়, সেখানে লক্ষাধিক টাকায় কেনা অটোরিকশাগুলো কোনো ধরনের কর বা অনুমোদন ছাড়াই দেদারসে সড়কে চলাচল করছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন ছাড়া এসব অবৈধ অটোরিকশা কীভাবে সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করছে?
এসব যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের, যার প্রভাব পড়ছে কর্মঘণ্টা ও অর্থনীতির ওপরও।
দুর্ঘটনা কমাতে কঠোর পদক্ষেপের দাবি
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর সড়কে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা কমাতে না পারলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
তাদের মতে দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—
অবৈধ অটোরিকশা শনাক্ত করে দ্রুত অপসারণ
চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা
ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ
সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি
সাধারণ নাগরিকদেরও প্রত্যাশা—সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার দ্রুত অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয়জন হারানোর শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।



















