ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে: রিজভী

নিজস্ব সংবাদ :

জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের নারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নারীদের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে দেখতে না চাওয়ার মানসিকতাই জামায়াতের মূল সংকট।

শুক্রবার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির শিকার হওয়া একাধিক নারীও উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, নারীরা রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্রের নেতৃত্বে আসুক, এটি তারা কখনোই চাননি। অথচ ভোটের সময় নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকেই ভোট চাওয়া হচ্ছে। এই দ্বিচারিতাই তাদের ভেতরের দুর্বলতা প্রকাশ করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়বে দেশের নারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলামের বাসায় হুমকিসূচক চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের চিঠিকে তিনি চরমপন্থী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ভিন্নমত পোষণকারী নারীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে অনলাইন হয়রানি চালানো হচ্ছে। ধর্মের নাম ব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে সমাজকে ধীরে ধীরে এক ভয়ংকর অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ভোট আদায়ের উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে অত্যন্ত নিম্নমানের ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।

হুমকির চিঠির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি বাসার দারোয়ানের কাছে চিঠি দিয়ে গেছে। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হুমকি দিয়ে নারীদের থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়—হোক তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা পোশাকশ্রমিক।

তিনি বলেন, সমস্যাটি নারী বিদ্বেষ নয়, বরং সেই নারীদের বিরুদ্ধেই আক্রমণ, যারা নিজেদের বক্তব্য দিয়ে সমাজে প্রভাব ফেলতে পারেন। নারীদের কেবল ভোটের সময় ব্যবহার করা হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা, যিনি পূর্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৫ মাস কারাবন্দি ছিলেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তিনি অনলাইন আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।

কুবরা অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সংগঠিত অনলাইন নেটওয়ার্ক পরিকল্পিতভাবে নারীদের মানসিকভাবে চাপে রাখছে। বিশেষ করে যারা নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তারাই সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। উদ্দেশ্য একটাই—ভয় দেখিয়ে নারীদের চুপ করিয়ে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, বাক্‌স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে জেল খাটার পর এখন সেই স্বাধীনতার মূল্য হিসেবে অনলাইন হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৪:০৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
৬৭ বার পড়া হয়েছে

জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে: রিজভী

আপডেট সময় ০৪:০৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের নারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নারীদের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে দেখতে না চাওয়ার মানসিকতাই জামায়াতের মূল সংকট।

শুক্রবার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির শিকার হওয়া একাধিক নারীও উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, নারীরা রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্রের নেতৃত্বে আসুক, এটি তারা কখনোই চাননি। অথচ ভোটের সময় নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকেই ভোট চাওয়া হচ্ছে। এই দ্বিচারিতাই তাদের ভেতরের দুর্বলতা প্রকাশ করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়বে দেশের নারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলামের বাসায় হুমকিসূচক চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের চিঠিকে তিনি চরমপন্থী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ভিন্নমত পোষণকারী নারীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে অনলাইন হয়রানি চালানো হচ্ছে। ধর্মের নাম ব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে সমাজকে ধীরে ধীরে এক ভয়ংকর অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ভোট আদায়ের উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে অত্যন্ত নিম্নমানের ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।

হুমকির চিঠির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি বাসার দারোয়ানের কাছে চিঠি দিয়ে গেছে। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হুমকি দিয়ে নারীদের থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়—হোক তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা পোশাকশ্রমিক।

তিনি বলেন, সমস্যাটি নারী বিদ্বেষ নয়, বরং সেই নারীদের বিরুদ্ধেই আক্রমণ, যারা নিজেদের বক্তব্য দিয়ে সমাজে প্রভাব ফেলতে পারেন। নারীদের কেবল ভোটের সময় ব্যবহার করা হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা, যিনি পূর্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৫ মাস কারাবন্দি ছিলেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তিনি অনলাইন আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।

কুবরা অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সংগঠিত অনলাইন নেটওয়ার্ক পরিকল্পিতভাবে নারীদের মানসিকভাবে চাপে রাখছে। বিশেষ করে যারা নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তারাই সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। উদ্দেশ্য একটাই—ভয় দেখিয়ে নারীদের চুপ করিয়ে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, বাক্‌স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে জেল খাটার পর এখন সেই স্বাধীনতার মূল্য হিসেবে অনলাইন হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481