ঢাকা ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, খোলা আকাশের নিচে একটি পরিবার

নিজস্ব সংবাদ :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার দেওয়ানজি কান্দি গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে সংঘটিত এ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ওই গ্রামের আবুল কালাম প্রধান। তিনি জানান, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

আবুল কালাম প্রধান আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে একটি মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, নগদ টাকা, বাড়ির দলিলপত্র, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সার্টিফিকেটসহ ঘরের সকল আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট হয়ে ঘরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ঘর আগুনে ছেয়ে যায়। আমার অসুস্থ বাবাকে কোনরকমে ঘর থেকে বের করতে পেরেছি। এছাড়া আর কিছু বের করতে পারিনি। আমার সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং মসজিদের ৫০ হাজার টাকা তার কাছে রক্ষিত ছিল, সেই টাকাও আগুনে পুড়ে গেছে।

আবুল কালাম প্রধান অভিযোগ করে বলেন, আগুন লাগার পর বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার ফোন করেছি। তারা অনেক পরে ফোন রিসিভ করে এবং জানানোর ১ থেকে দেড় ঘণ্টা পর বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করা হয়। ফায়ার সার্ভিসও আসতে অনেক দেরি করেছে। যদি সময়মতো আসত, তাহলে হয়তো ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কম হতো।

স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পর গ্রামবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে পুরো বসতঘর আগুনে পুড়ে ভূষণ্ডিত হয়ে যায়।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গ্রামবাসীরা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানান।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং তারা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমি ঘটনাস্থলে আমার প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। সরকারিভাবে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:১৫:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
১১১ বার পড়া হয়েছে

মতলব উত্তরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, খোলা আকাশের নিচে একটি পরিবার

আপডেট সময় ০৯:১৫:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার দেওয়ানজি কান্দি গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে সংঘটিত এ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ওই গ্রামের আবুল কালাম প্রধান। তিনি জানান, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

আবুল কালাম প্রধান আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে একটি মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, নগদ টাকা, বাড়ির দলিলপত্র, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সার্টিফিকেটসহ ঘরের সকল আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট হয়ে ঘরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ঘর আগুনে ছেয়ে যায়। আমার অসুস্থ বাবাকে কোনরকমে ঘর থেকে বের করতে পেরেছি। এছাড়া আর কিছু বের করতে পারিনি। আমার সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং মসজিদের ৫০ হাজার টাকা তার কাছে রক্ষিত ছিল, সেই টাকাও আগুনে পুড়ে গেছে।

আবুল কালাম প্রধান অভিযোগ করে বলেন, আগুন লাগার পর বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার ফোন করেছি। তারা অনেক পরে ফোন রিসিভ করে এবং জানানোর ১ থেকে দেড় ঘণ্টা পর বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করা হয়। ফায়ার সার্ভিসও আসতে অনেক দেরি করেছে। যদি সময়মতো আসত, তাহলে হয়তো ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কম হতো।

স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পর গ্রামবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে পুরো বসতঘর আগুনে পুড়ে ভূষণ্ডিত হয়ে যায়।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গ্রামবাসীরা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানান।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং তারা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমি ঘটনাস্থলে আমার প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। সরকারিভাবে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করা হবে।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481