ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদুরোকে ধরে আনা, ইরানে আক্রমণ: ট্রাম্পের এক বছরের তাণ্ডবে অস্থির দুনিয়া

নিজস্ব সংবাদ :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার পর গত ৩৬৫ দিনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক ব্যবস্থায় এমন সব পরিবর্তন এনেছেন, যা নজিরবিহীন বলেই আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ট্রাম্প ২.০-এর প্রথম বছরের চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই রেকর্ড ২৬টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—এবারের শাসনামল হবে আরও আক্রমণাত্মক। এক বছরে মোট ২২৮টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ট্রাম্প, যা তার আগের চার বছরের পুরো মেয়াদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসন নেয় কঠোরতম অবস্থান। গত এক বছরে অন্তত ৬ লাখ ৫ হাজার মানুষকে সরাসরি বহিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা হয়।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রধান হাতিয়ার ছিল শুল্কনীতি। মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী—সব দেশের ওপর গড়ে ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করেন তিনি। এতে মার্কিন কোষাগারে ২৮৭ বিলিয়ন ডলার জমা হলেও মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ আমেরিকানদের জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

সরকারি খাতেও নেমে আসে বড় ঝাঁকুনি। ইলন মাস্ক-এর নেতৃত্বে গঠিত ‘ডোজ’ বা সরকারি দক্ষতা বিভাগ প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার ফেডারেল কর্মী ছাঁটাই করে। শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোকেও বন্ধ বা একীভূত করা হয়।

পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্প একদিকে নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে চিত্র ছিল ভিন্ন। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত সাতটি দেশে বিমান হামলা চালায়। সর্বশেষ বড় হামলার লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলা। এমনকি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে অপহরণের ঘটনাও এই মেয়াদের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে।

জলবায়ু ইস্যুতেও ট্রাম্প ফিরে যান আগের অবস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রকে Paris Agreement থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে বিশাল সমুদ্র অঞ্চল খুলে দেন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য।

সব মিলিয়ে ট্রাম্প ২.০-এর প্রথম বছর ছিল বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, মার্কিন একক আধিপত্য এবং আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এক ভয়ংকর সংঘাতের সময়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৮:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
৭২ বার পড়া হয়েছে

মাদুরোকে ধরে আনা, ইরানে আক্রমণ: ট্রাম্পের এক বছরের তাণ্ডবে অস্থির দুনিয়া

আপডেট সময় ০৮:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার পর গত ৩৬৫ দিনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক ব্যবস্থায় এমন সব পরিবর্তন এনেছেন, যা নজিরবিহীন বলেই আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ট্রাম্প ২.০-এর প্রথম বছরের চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই রেকর্ড ২৬টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—এবারের শাসনামল হবে আরও আক্রমণাত্মক। এক বছরে মোট ২২৮টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ট্রাম্প, যা তার আগের চার বছরের পুরো মেয়াদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসন নেয় কঠোরতম অবস্থান। গত এক বছরে অন্তত ৬ লাখ ৫ হাজার মানুষকে সরাসরি বহিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা হয়।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রধান হাতিয়ার ছিল শুল্কনীতি। মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী—সব দেশের ওপর গড়ে ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করেন তিনি। এতে মার্কিন কোষাগারে ২৮৭ বিলিয়ন ডলার জমা হলেও মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ আমেরিকানদের জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

সরকারি খাতেও নেমে আসে বড় ঝাঁকুনি। ইলন মাস্ক-এর নেতৃত্বে গঠিত ‘ডোজ’ বা সরকারি দক্ষতা বিভাগ প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার ফেডারেল কর্মী ছাঁটাই করে। শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোকেও বন্ধ বা একীভূত করা হয়।

পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্প একদিকে নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে চিত্র ছিল ভিন্ন। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত সাতটি দেশে বিমান হামলা চালায়। সর্বশেষ বড় হামলার লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলা। এমনকি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে অপহরণের ঘটনাও এই মেয়াদের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে।

জলবায়ু ইস্যুতেও ট্রাম্প ফিরে যান আগের অবস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রকে Paris Agreement থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে বিশাল সমুদ্র অঞ্চল খুলে দেন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য।

সব মিলিয়ে ট্রাম্প ২.০-এর প্রথম বছর ছিল বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, মার্কিন একক আধিপত্য এবং আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এক ভয়ংকর সংঘাতের সময়।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481