ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরে জুয়ার দাপট, ছড়িয়ে পড়ছে মাদক ও অপরাধ—নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ

নিজস্ব সংবাদ :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিতভাবে জুয়ার জমজমাট আসর বসছে। এসব আসরকে ঘিরেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসা, বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ। সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয়ে ভোর রাত পর্যন্ত চলে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সটাকী, বাবু বাজার, দশানী, মোহনপুর, এখলাছপুর, সুজাতপুর, নতুন বাজার, কালীরবাজার, সাহেব বাজার, ছেংগারচরসহ একাধিক এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার জুয়ার আসর বসে। জুয়ার পাশেই খোলামেলা ভাবে চলে মাদক কেনাবেচা ও সেবন।

জুয়ার আসরের প্রভাবে কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা, কারণ উঠতি বয়সী যুবক ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও এই আসরে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক পরিবারে জুয়াকে কেন্দ্র করে নিত্যদিনের কলহ লেগেই আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দশানী নদীর পাড়, সটাকী ও কালীরবাজারের কয়েকটি দোকান, নন্দলালপুরের সিরাজ বেপারীর বাড়ি, চান্দাকান্দী ও আশপাশের বাগানগুলোতে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে। এছাড়া ইমামপুর, হানিরপাড়া, পালালোকদিসহ প্রায় সব এলাকাতেই কম-বেশি জুয়া চলছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ছেংগারচর বাজারের আশপাশে অন্তত ৮ থেকে ১০টি পয়েন্টে নিয়মিত জুয়া ও মাদকের আসর বসে। বাবু বাজার এলাকায় সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জুয়ার পাশাপাশি মাদক সেবন চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাদুল্লাপুর ও দুর্গাপুর আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকাগুলো কার্যত মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এসব জুয়ার আসর থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেন। ফলে পুলিশি অভিযান খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দশানী গ্রামের কয়েকজন জানান, কিছুদিন আগে পুলিশ কয়েকজন জুয়ারিকে আটক করলেও তারা জামিনে বেরিয়ে আবারও আগের মতো জুয়ার আসর বসাচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, জুয়া ও মাদকের টাকার জোগান দিতে গিয়ে এসব চক্র চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে পুরো এলাকা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অনেকেই ভয় ও প্রভাবশালীদের চাপে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, “জুয়া একটি সামাজিক ব্যাধি। এর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৬:১৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
১৩১ বার পড়া হয়েছে

মতলব উত্তরে জুয়ার দাপট, ছড়িয়ে পড়ছে মাদক ও অপরাধ—নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় ০৬:১৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিতভাবে জুয়ার জমজমাট আসর বসছে। এসব আসরকে ঘিরেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসা, বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ। সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয়ে ভোর রাত পর্যন্ত চলে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সটাকী, বাবু বাজার, দশানী, মোহনপুর, এখলাছপুর, সুজাতপুর, নতুন বাজার, কালীরবাজার, সাহেব বাজার, ছেংগারচরসহ একাধিক এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার জুয়ার আসর বসে। জুয়ার পাশেই খোলামেলা ভাবে চলে মাদক কেনাবেচা ও সেবন।

জুয়ার আসরের প্রভাবে কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা, কারণ উঠতি বয়সী যুবক ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও এই আসরে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক পরিবারে জুয়াকে কেন্দ্র করে নিত্যদিনের কলহ লেগেই আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দশানী নদীর পাড়, সটাকী ও কালীরবাজারের কয়েকটি দোকান, নন্দলালপুরের সিরাজ বেপারীর বাড়ি, চান্দাকান্দী ও আশপাশের বাগানগুলোতে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে। এছাড়া ইমামপুর, হানিরপাড়া, পালালোকদিসহ প্রায় সব এলাকাতেই কম-বেশি জুয়া চলছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ছেংগারচর বাজারের আশপাশে অন্তত ৮ থেকে ১০টি পয়েন্টে নিয়মিত জুয়া ও মাদকের আসর বসে। বাবু বাজার এলাকায় সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জুয়ার পাশাপাশি মাদক সেবন চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাদুল্লাপুর ও দুর্গাপুর আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকাগুলো কার্যত মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এসব জুয়ার আসর থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেন। ফলে পুলিশি অভিযান খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দশানী গ্রামের কয়েকজন জানান, কিছুদিন আগে পুলিশ কয়েকজন জুয়ারিকে আটক করলেও তারা জামিনে বেরিয়ে আবারও আগের মতো জুয়ার আসর বসাচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, জুয়া ও মাদকের টাকার জোগান দিতে গিয়ে এসব চক্র চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে পুরো এলাকা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অনেকেই ভয় ও প্রভাবশালীদের চাপে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, “জুয়া একটি সামাজিক ব্যাধি। এর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481