এভারকেয়ারের সামনে অবস্থান বিএনপি নেতাকর্মীদের
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে শুরু করে পূর্বাচল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
সকালের আলো ফোটার পর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে গণসংবর্ধনাস্থলে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে দুই সারিতে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নিয়েছেন তারা। প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে পূর্বাচল এলাকাও জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
৬০ বছর বয়সি তারেক রহমান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেফতার হয়ে ১৮ মাস কারাবাস ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। প্রবাসে থাকাকালেই তিনি ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে হারিয়েছেন, যার জানাজায় শরিক হতে পারেননি। মা খালেদা জিয়ার সান্নিধ্য থেকেও বঞ্চিত ছিলেন দীর্ঘ সময়।
২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তিনি। লন্ডন থেকেই ভার্চুয়ালি দল পরিচালনা করে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করেছেন।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। তিনি গুলশান এভিনিউর ১৯৬ নম্বর ভবনে উঠবেন, যা তার মা খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’র ঠিক পাশেই অবস্থিত। এছাড়া গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয় এবং নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার জন্য আলাদা চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য গুলশানে আলাদা একটি বাসা ভাড়াও নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।




















