‘হাদির খুনিদের হাতে দেশ তুলে দেবেন না’: মৃত্যুর পর সহিংসতা রুখতে ইনকিলাব মঞ্চের জরুরি বার্তা
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জুলাই বিপ্লবের অন্যতম যোদ্ধা ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে যখন ক্ষোভ ও বিক্ষোভ চলছে, ঠিক তখনই সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে তার সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোরে এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ভাঙচুর ও অরাজকতা সৃষ্টি করলে হাদির খুনিদের হাতেই দেশকে তুলে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর পর শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি জরুরি বার্তা দেওয়া হয়।
সহিংসতা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা:
ইনকিলাব মঞ্চ তাদের পোস্টে লেখে, “ভাঙচুর আর আগুন সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে তারা মূলত বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তারা এই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে চায়। হাদিকে যারা খুন করেছে, তাদের হাতে দেশকে তুলে দিয়েন না।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারলে কার লাভ, সেটা একবার ভেবে দেখুন! বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি অভয়ারণ্য ও নিয়ন্ত্রণহীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে, যার কোনো সুফল নেই; উল্টো আমরা দীর্ঘমেয়াদী দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে যাচ্ছি।”
সংগঠনটি দেশবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলে, “আমাদের সামনে দীর্ঘ লড়াই, এটা দুই-একদিনে হাসিল করা সম্ভব না। বাংলাদেশকে স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করুন। সহিংসতা পরিহার করুন।”
এর ঘণ্টাখানেক পর দেওয়া আরেকটি পোস্টে ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিজ্ঞা করে বলে, “খুনি যদি জাহান্নামেও থাকে, জাহান্নাম থেকে এনে আমাদের সামনে হাজির করতে হবে। আমরা বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সহিংসতা পরিহার পূর্বক সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।”
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানেই বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।




















